জীবনের দীর্ঘ প্রতিকূলতা ও শিক্ষাবিরতিকে পেছনে ফেলে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা শেফালী বেগম। চলতি ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় গোমনাতি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ থেকে অংশগ্রহণ করে তিনি জিপিএ ৪.২১ অর্জন করেছেন। ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর এবং অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় সংসারের তাগিদে তাঁর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ দেড় যুগ পর স্বামী ও তিন সন্তানের অদম্য উৎসাহে ২০২০ সালে তিনি আবারও নতুন করে নিজের শিক্ষাজীবন শুরু করেন।
সংসারের নানা দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি কঠোর রুটিন মেনে চলতেন শেফালী বেগম। দিনের সব কাজ শেষে গভীর রাত পর্যন্ত চলত তাঁর পড়াশোনা। তাঁর এই অদম্য লড়াইয়ে পরিবারের সদস্যরা সব সময় পাশে ছিলেন। তাঁর বড় ছেলে আব্দুর রাজ শাফি দক্ষিণ কোরিয়ার কিয়াংসাং বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্যপ্রযুক্তিতে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত এবং মেয়ে মাকছুরা খানম নাসমুন রংপুর সরকারি কলেজে মাস্টার্সে পড়াশোনা করছেন। সন্তানদের এই সাফল্য এবং নিজের সুপ্ত বাসনা থেকেই তিনি কুসংস্কার ও বয়সের বাধাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পুনরায় বই হাতে তুলে নেন।
শেফালী বেগমের এই অভাবনীয় সাফল্য কেবল তাঁর নিজের পরিবারে নয়, বরং পুরো সমাজে এক ঐতিহাসিক অনুপ্রেরণার সৃষ্টি করেছে। তাঁর শিক্ষকমণ্ডলী ও পরিবারের বিশ্বাস, তাঁর এই অর্জন সমাজে পিছিয়ে পড়া এবং বয়সের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়া মানুষদের নতুন করে স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করবে। পরীক্ষার এই সাফল্যের পর শেফালী বেগম এখানেই থেমে থাকতে চান না; বরং তিনি সামনে অনার্সে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।



