ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাওয়া কিংবদন্তি ও ‘বোনা বাতাস’ বা “Woven Air” নামে খ্যাত ঢাকাই মসলিন দীর্ঘ প্রায় ১৭০ বছর পর மீண்டும் আধুনিক বিশ্বে ফিরে আসছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা, হারিয়ে যাওয়া সুতির আদি বীজ ‘ফুটি কার্পাস’ পুনরুদ্ধার এবং সুপ্রাচীন বুনন কৌশল পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বাংলাদেশের এই ঐতিহ্যবাহী গৌরবময় বস্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং বিশেষ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এই বিশাল কর্মযজ্ঞের ফলে বিশ্ববাজারে প্রিমিয়াম লাক্সারি বা বিলাসবহুল পণ্য হিসেবে মসলিনের নতুন অধ্যায় সূচিত হতে যাচ্ছে।
মসলিন পুনরুদ্ধারের এই যাত্রার পেছনের মূল ভিত্তি ছিল বহু আগে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ফুটি কার্পাস তুলা। দীর্ঘ গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের মাধ্যমে প্রাচীন এই তুলার উৎস খুঁজে বের করে তা সফলভাবে চাষ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ঐতিহ্যবাহী বুনন শৈলী পুনরুদ্ধার করে দেশের তিন শতাধিক নারী কারিগরকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যারা অত্যন্ত সূক্ষ্ম এই সুতা ও বস্ত্র উৎপাদনে মুন্সিয়ানা দেখাচ্ছেন। বিজ্ঞান ও ঐতিহ্যের এই নিখুঁত মেলবন্ধনে মসলিনের সুক্ষ্মতা ও গুণগত মান আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেও সফলভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
সরকারের সুনির্দিষ্ট বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমবর্ধমান আগ্রহের ফলে ঢাকাই মসলিন এখন বাণিজ্যিকভাবে বিশ্বমঞ্চে প্রবেশ করতে প্রস্তুত। প্রারম্ভিক পর্যায়ে উৎপাদন খরচ কিছুটা বেশি থাকলেও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে এটিকে আরও বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে এই বিলাসবহুল পণ্যটি বিশ্ববাসীর নজর কাড়বে এবং দেশের রেশমি ও তাঁত শিল্পকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।



