ভারতের জনপ্রিয় ক্রাইম ধারাবাহিক ‘সিআইডি’ এবং ভৌতিক ধারাবাহিক ‘আহট’-এর নির্মাতা ব্রিজেন্দ্র পাল সিং, যিনি বিপি সিং নামেই পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় টেলিভিশনের দর্শকদের রোমাঞ্চকর বিনোদন উপহার দিয়েছেন এই নির্মাতা। ২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবর ৭৭ বছর বয়সে মুম্বাইয়ে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়। পরিচালনা ও অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে রয়েছে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা, যা অনেকেরই অজানা।
বিপি সিংয়ের পেশাজীবনের শুরু হয়েছিল ক্যামেরার পেছনে। ১৯৭৩ সালে দূরদর্শনে সংবাদ ক্যামেরাম্যান হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে নির্মাতা ও প্রযোজক হিসেবে ভারতীয় টেলিভিশনে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।
টেলিভিশনের ইতিহাসে তাঁর অন্যতম উল্লেখযোগ্য অর্জন ‘সিআইডি’র বিশেষ পর্ব ‘দ্য ইনহেরিটেন্স’, যা ‘সিআইডি ১১১’ নামেও পরিচিত। প্রায় ১১১ মিনিট বা ১ ঘণ্টা ৫১ মিনিটের এই পর্বটি একটানা সিঙ্গেল শটে ধারণ করা হয়েছিল বলে জানা যায়। দীর্ঘতম টেলিভিশন শটের জন্য এই কাজ গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস ও লিমকা বুক অব রেকর্ডসে স্থান পায়। এই ব্যতিক্রমী নির্মাণশৈলী তাঁকে টেলিভিশন জগতে বিশেষ পরিচিতি এনে দেয়।
ক্রাইম ও হরর ঘরানার বাইরেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন বিপি সিং। তিনি ভারতের প্রথম দিককার মুকাভিনয়ধর্মী কমেডি সিরিজ ‘গুটুর গু’ প্রযোজনা করেন। ফলে বিভিন্ন ধরনের টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণে তাঁর আগ্রহ ও সৃজনশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়।
‘সিআইডি’র জনপ্রিয় চরিত্র দয়ার ভূমিকায় অভিনয় করা দয়ানন্দ শেট্টিকে টেলিভিশনে পরিচিত করে তোলার পেছনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বিপি সিংয়ের। একটি ডিসকাস থ্রো প্রতিযোগিতায় শেট্টির প্রতিভা দেখে তাঁকে অভিনয়ে আনার উদ্যোগ নেন তিনি। পরবর্তী সময়ে দয়া চরিত্রটি দর্শকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
অভিনেতা হিসেবেও বড় পর্দায় কাজ করেছেন বিপি সিং। ২০১২ সালে সাইফ আলী খান অভিনীত স্পাই থ্রিলার চলচ্চিত্র ‘এজেন্ট বিনোদ’-এ ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান হাসান নওয়াজের চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। ছোট পর্দায় ডিসিপি চিত্রোলের চরিত্রে পরিচিত এই নির্মাতার অভিনয়জীবনের এটি ছিল উল্লেখযোগ্য সংযোজন।
শিক্ষাজীবনে বিপি সিং পুনের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া (এফটিআইআই)-তে পড়াশোনা করেন। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। নির্মাতা, প্রযোজক ও অভিনেতা হিসেবে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন ভারতীয় টেলিভিশনের বিনোদনজগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।
সূত্র: ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম ও Guinness World Records



