বিশ্বসেরা ফুটবলার হওয়ার স্বীকৃতি, হাতে সোনালি ট্রফি নিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানো কিংবা ব্যালন ডি’অর জয়ের আনন্দের সঙ্গে তুলনা চলে না অন্য কিছুর। তবে এত সম্মান, তারকাখ্যাতি ও বিশ্বজুড়ে পরিচিতির কেন্দ্রে থাকা এই পুরস্কার জিতলে ফুটবলারদের হাতে কি মোটা অঙ্কের অর্থও ওঠে? উত্তরটি অনেকের ধারণার সঙ্গে নাও মিলতে পারে। কারণ, ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য আয়োজকদের কাছ থেকে বিজয়ীরা সরাসরি কোনো নগদ অর্থ পান না। তবে এই পুরস্কার একজন ফুটবলারের আয় বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে।
১৯৫৬ সালে ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের প্রবর্তন করে। শুরুতে ইউরোপের সেরা ফুটবলারকে এই সম্মান দেওয়া হলেও সময়ের সঙ্গে এর পরিধি বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবলাররা এই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হন। পুরুষ ফুটবলারদের পাশাপাশি নারী ফুটবলারদের জন্যও রয়েছে ব্যালন ডি’অর।
ব্যালন ডি’অরের আয়োজক ‘ফ্রান্স ফুটবল’ বিজয়ীকে নির্দিষ্ট কোনো অর্থ পুরস্কার দেয় না। অর্থাৎ, ট্রফি জয়ের সঙ্গে আয়োজকদের কাছ থেকে নির্ধারিত অঙ্কের টাকা পাওয়ার কোনো নিয়ম নেই। তবে খেলোয়াড়ের সঙ্গে তাঁর ক্লাবের চুক্তিতে বিশেষ বোনাসের শর্ত থাকলে ব্যালন ডি’অর জয়ের সুবাদে তিনি বড় অঙ্কের অর্থ পেতে পারেন।
এ ছাড়া ব্যালন ডি’অর জয় একজন ফুটবলারের বাণিজ্যিক মূল্য বাড়িয়ে দেয়। বিশ্বজুড়ে পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন পৃষ্ঠপোষকতা, বিজ্ঞাপনী চুক্তি এবং বিভিন্ন বিপণন কার্যক্রম থেকে আয় করার সুযোগ তৈরি হয়। তবে এই আয় সবার ক্ষেত্রে এক রকম নয়। এটি নির্ভর করে খেলোয়াড়ের জনপ্রিয়তা, পৃষ্ঠপোষকদের আগ্রহ, চুক্তির শর্ত এবং বাণিজ্যিক চাহিদার ওপর।
ব্যালন ডি’অর জয়ের পর পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বোনাস পাওয়ার নজিরও রয়েছে। ২০১৮ সালে এই পুরস্কার জয়ের পর ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলার লুকা মদরিচ তাঁর পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান নাইকির কাছ থেকে প্রায় আট লাখ ইউরো বোনাস পেয়েছিলেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে এই অর্থ ব্যালন ডি’অরের আয়োজকদের দেওয়া পুরস্কার ছিল না; বরং পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির আওতায় পাওয়া বোনাস বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
একইভাবে ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিতেও ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য বিশেষ বোনাসের শর্ত থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে পুরস্কার জিতলে খেলোয়াড়ের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। তবে এ ধরনের চুক্তির সব তথ্য প্রকাশ্যে আসে না এবং বোনাসের পরিমাণও খেলোয়াড়ভেদে আলাদা হয়।
ব্যালন ডি’অরের সোনালি ট্রফি দেখে অনেকের ধারণা, এটি সম্পূর্ণ সোনার তৈরি। বাস্তবে তা নয়। ফরাসি গহনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মেলেরিওর কারিগরেরা হাতে তৈরি করেন এই ট্রফি। এতে পিতলের তৈরি বলের আকৃতির অংশে সোনার প্রলেপ দেওয়া হয় এবং নিচে থাকে পাইরাইট পাথরের ভিত্তি। ট্রফিটি তৈরিতে কারিগরদের প্রায় ১০০ ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রফিটির নির্মাণমূল্য নিয়েও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রায় তিন হাজার ইউরোর একটি হিসাব প্রচলিত রয়েছে। তবে আয়োজক বা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এর নির্দিষ্ট মূল্য আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। তাই এই অঙ্ককে ট্রফিটির নিশ্চিত বাজারমূল্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
সব মিলিয়ে, ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য সরাসরি নগদ অর্থ না পেলেও এই স্বীকৃতি ফুটবলারদের জন্য আর্থিকভাবে লাভজনক হয়ে উঠতে পারে। ক্লাবের বোনাস, পৃষ্ঠপোষকতা এবং বিজ্ঞাপনী চুক্তির মাধ্যমে তাঁদের আয় বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়। ফলে ব্যালন ডি’অরের প্রকৃত আর্থিক মূল্য শুধু ট্রফির দামে নয়, বরং একজন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার ওপরও নির্ভর করে।



