আজ ২০ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক শেফ দিবস। বিশ্বজুড়ে রন্ধনশিল্পীদের সৃজনশীলতা, দক্ষতা ও অবদানকে সম্মান জানাতে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে রন্ধনশিল্পে আগ্রহী করে তোলা, পুষ্টিকর খাবার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাও এ দিবসের অন্যতম লক্ষ্য।
রন্ধনশিল্প কেবল খাবার তৈরি ও পরিবেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সৃজনশীলতা, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পুষ্টিবিজ্ঞানের সমন্বয়। হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পর্যটনশিল্পে কর্মরত শেফরা তাঁদের দক্ষতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রতিদিন মানুষের খাবারের অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করেন। আন্তর্জাতিক শেফ দিবস তাঁদের এই অবদানকে স্বীকৃতি জানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
২০০৪ সালে দিবসটির সূচনা
ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব শেফস সোসাইটিজের (ওয়ার্ল্ডশেফস) তৎকালীন সভাপতি ড. বিল গ্যালাঘারের উদ্যোগে ২০০৪ সালে আন্তর্জাতিক শেফ দিবসের সূচনা হয়। এরপর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে রন্ধনশিল্পের বিকাশ, পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে রান্নার দক্ষতা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক শেফ দিবসের প্রচারণায় ‘ফুড এক্সপ্লোরারস’ বা খাবারের অনুসন্ধানী হওয়ার ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষকে খাবারের উপাদান, উৎপত্তি, বৈশিষ্ট্য ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানার জন্য উৎসাহিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘ভবিষ্যতের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার’ বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস এবং পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে শেফদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। রান্নায় স্বাস্থ্যসম্মত উপকরণ নির্বাচন, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং খাবারের পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়গুলোও এ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
আন্তর্জাতিক শেফ দিবসের অন্যতম লক্ষ্য হলো অভিজ্ঞ শেফদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও রন্ধনকৌশল নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া। পাশাপাশি পেশাদার রন্ধনশিল্পীদের কাজের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং তরুণদের এ পেশায় আগ্রহী করে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ জীবনযাপনের জন্য স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং পুষ্টিকর খাবার আকর্ষণীয়ভাবে পরিবেশনে শেফদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই আন্তর্জাতিক শেফ দিবস শুধু রন্ধনশিল্পীদের সম্মান জানানোর দিন নয়, বরং নিরাপদ, পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। রন্ধনশিল্পের ঐতিহ্য সংরক্ষণ, নতুন স্বাদের উদ্ভাবন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যসংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রত্যয়ে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।



