রংপুরের তারাগঞ্জের ব্যস্ততম রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কে প্রায় তিন বছর ধরে এক অসাধারণ ও নিঃস্বার্থ মানবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন ৫৫ বছর বয়সী শফিউল ইসলাম শফি। কোনো ধরনের সরকারি নিয়োগ কিংবা বেতন ছাড়াই তিনি প্রতিদিন প্রায় ১৫ ঘণ্টা ধরে এই মহাসড়কে স্বেচ্ছায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও পথচারীদের পারাপারে সহায়তা করে আসছেন। শফি মূলত খিয়ারজুম্মা এলাকায় একের পর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা নিজের চোখে দেখার পরই এই যুগান্তকারী ও সাহসী সিদ্ধান্ত নেন, যাতে সড়কে আর কোনো তাজা প্রাণ ঝরে না যায়।
তার এই কাজের পেছনের গল্পটি আরও বেশি অনুপ্রেরণাদায়ক। তার পরিধানে থাকা ট্রাফিক সিগন্যালের ইউনিফর্ম এবং জুতোটি মূলত পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ধার করা। ছয় সন্তানের জনক শফিউল ইসলাম শফি নিজে চরম আর্থিক অনটন ও নানা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করলেও নিজের ব্যক্তিগত কষ্টের কথা চিন্তা না করে প্রতিদিন সড়কে মানুষের জীবন রক্ষাকেই নিজের প্রধান ব্রত হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তার এই নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টা শুধু তারাগঞ্জ এলাকাবাসীর জন্যই নয়, বরং পুরো দেশের মানুষের কাছে এক অনন্য ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। সমাজের প্রতিটি স্তরে যখন স্বার্থপরতার ভিড়, তখন শফিউল ইসলাম শফির মতো মানুষের এমন আত্মত্যাগ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে মানবতা এখনও বেঁচে আছে।



