টাঙ্গাইল-আরিচা সড়কের বকুলতলা মোড়ে মতিউর রহমানের ব্যবসার যাত্রা শুরু হয়েছিল তাঁর বাবার একটি ছোট মনিহারি দোকান থেকে। প্রায় ২৫ বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর মতিউর রহমান সেই দোকানের পুরো দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। প্রথমে কেবল মনিহারি সামগ্রী বিক্রি করলেও কয়েক বছর পর ব্যবসার প্রসার ঘটাতে মনিহারি পণ্যের পাশাপাশি চা, শিঙাড়া, পুরি ও পেঁয়াজু বিক্রি করা শুরু করেন তিনি।
পরবর্তী ৫ থেকে ৭ বছর এসব খাবার বিক্রির মাধ্যমে মতিউরের তৈরি শিঙাড়ার সুনাম চারপাশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। তাঁর বানানো মচমচে ও সুস্বাদু শিঙাড়ার চাহিদা দিন দিন এতটাই বাড়তে থাকে যে একপর্যায়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেন অন্য সব পণ্যের ব্যবসা বন্ধ করে দেবেন। কয়েক বছর ধরে মতিউর রহমান এখন অন্য সব খাবার বাদ দিয়ে কেবল শিঙাড়াই তৈরি ও বিক্রি করছেন।
বর্তমানে তাঁর এই ছোট দোকানে প্রতিদিন গড়ে ৮০০ থেকে ১ হাজার পিস শিঙাড়া বিক্রি হয়, যার প্রতিটির মূল্য রাখা হয় ১০ টাকা। দূরদূরান্ত থেকে ভোজনরসিক মানুষ কেবল এই বিশেষ শিঙাড়ার স্বাদ নিতে তাঁর দোকানে ছুটে আসেন। শিঙাড়ার এই বিপুল জনপ্রিয়তার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে মূল ‘বকুলতলার মোড়’ এলাকাটি এখন এক নামে ‘শিঙাড়ার মোড়’ হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করেছে। সাধারণ এক মনিহারি দোকান থেকে কঠোর পরিশ্রম ও মেধার জোরে ব্যবসা গড়ে তোলার এই গল্প স্থানীয়দের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।



