সুনামগঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি টাঙ্গুয়ার হাওড় এখন মারাত্মক পরিবেশগত হুমকির মুখে পড়েছে। অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন, যত্রতত্র বর্জ্য ফেলানো এবং মারাত্মক দূষণের কারণে এই স্পর্শকাতর বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেম তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে। পর্যটন মৌসুমে প্রতিবছর শত শত হাউজবোট ও অন্যান্য ইঞ্জিনচালিত নৌকা হাওড়ে চলাচল করে। এসব জলযান থেকে নির্গত প্রচুর পরিমাণে প্লাস্টিক বর্জ্য, মানববর্জ্য বা স্যুয়েজ, উচ্ছিষ্ট খাবার, জ্বালানি তেল এবং রাসায়নিক পদার্থ হাওড়ের জলরাশিকে বিষাক্ত করে তুলছে।
এর পাশাপাশি বিকট শব্দের নৌকার ইঞ্জিন ও সাউন্ড সিস্টেমের উচ্চ আওয়াজে প্রাকৃতিক নিস্তব্ধতা বিনষ্ট হচ্ছে, যা সেখানকার দেশি ও অতিথি পাখি এবং জলজ প্রাণীদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। এছাড়া অবৈধভাবে মাছ শিকার, পাখি শিকার এবং ক্ষতিকর উপায়ে মৎস্য আহরণের ফলে হাওড়ের জীববৈচিত্র্য ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহলের মতে, টাঙ্গুয়ার হাওড় এবং এর পার্শ্ববর্তী জনগোষ্ঠীর জীবনজীবিকা রক্ষায় অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত পর্যটন নীতিমালা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, পরিবেশবান্ধব নৌকার ব্যবহার সুনিশ্চিত করা এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। সময় থাকতে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আমাদের এই অনন্য প্রাকৃতিক সম্পদ তার রূপ ও বৈচিত্র্য চিরতরে হারিয়ে ফেলবে।



