সুনামগঞ্জের ৭১ বছর বয়সী মোহাম্মদ লস্কর আলী এক অনন্য ও অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। চার দশকেরও বেশি সময় আগে, বিয়ের পর সংসার চালানো এবং পরিবারের আর্থিক কষ্ট দূর করার তাগিদেই তারা প্রথম সরিষার তেলের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। তবে সাধারণ একটি ব্যবসাকে কেবল উপার্জনের উপায় না বানিয়ে, এর পেছনে তিনি যুক্ত করেছিলেন এক গভীর আবেগ, ভালোবাসা ও নীতিবোধ।
লস্কর আলী তাঁর প্রয়াত স্ত্রী ফুলজান বিবিকে এক পবিত্র কথা দিয়েছিলেন—তাঁরা জীবনে যাই করুন না কেন, ব্যবসা সর্বদা শতভাগ সততার সাথে পরিচালনা করবেন এবং নিজেদের প্রস্তুত করা সরিষার তেলে কখনো বিন্দুমাত্র ভেজাল মেশাবেন না। আজ স্ত্রীর অবর্তমানেও, দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে তিনি সেই প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে রক্ষা করে চলেছেন।
বর্তমানে তিনি তাঁর ছেলেকে সাথে নিয়ে এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। আধুনিক যন্ত্রপাতির ভিড়ে আজও তাঁরা ঘোড়া দিয়ে পরিচালিত ঐতিহ্যবাহী কাঠের ঘানি ব্যবহার করে সম্পূর্ণ খাঁটি সরিষার তেল তৈরি করছেন। কোনো রাসায়নিক বা কৃত্রিম মিশ্রণ ছাড়া প্রস্তুত করা এই তেলের ঘ্রাণ ও গুণগত মান সুনামগঞ্জ শহর থেকে শুরু করে দূর-দূরান্তের গ্রামগুলোর মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠেছে। সততা ও গুণগত মান ধরে রাখার এই অক্লান্ত পরিশ্রমই তাঁর পরিবারে এনে দিয়েছে আর্থিক স্বচ্ছলতা ও স্থায়ী স্থায়িত্ব।
নিখাদ সততা ও নিখুঁত গুণগত মান বজায় রেখে খাঁটি সরিষার তেল উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের জন্য সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা প্রশাসন থেকেও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা ও স্বীকৃতি লাভ করেছেন। আজকের যুগে যেখানে চারিদিকে ভেজাল ও লাভ সর্বস্ব ব্যবসার ছড়াছড়ি, সেখানে লস্কর আলীর এই গল্প কেবল একটি ব্যবসার কাহিনী নয়; এটি ভালোবাসা, প্রতিশ্রুতি ও খাঁটি মানুষের এক চিরন্তন অনুপ্রেরণা।



