রাজধানীর জরাজীর্ণ ও কার্বন ছড়ানো দূরপাল্লার এবং নগর বাসগুলোর জায়গায় পরিবেশবান্ধব যান নামাতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)। চীন সরকারের ঋণ সহায়তায় ৫০০টি নতুন এয়ার-কন্ডিশন্ড একক-ডেকার ইলেকট্রিক বাস আমদানির প্রকল্প চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় রয়েছে, যার আনুমানিক মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১,৮৭০ কোটি টাকা। যেখানে কোরিয়ান একটি ইলেকট্রিক বাসের দর প্রস্তাব ছিল ৪.৬১ কোটি টাকা, সেখানে চীনা প্রকল্পের প্রতিটি বাসের ইউনিট প্রাইস ধরা হয়েছে প্রায় ২.৪৬ কোটি টাকা। পরিবহন খাতে ধাপে ধাপে ৩০% পর্যন্ত ইলেকট্রিক যানবাহন যুক্ত করার জাতীয় লক্ষ্যের অংশ হিসেবে এই বড় বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পটিতে কেবল নতুন বাস কেনাই হচ্ছে না, বরং একটি সম্পূর্ণ ইভি (EV) অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। বাসগুলোর মসৃণ পরিচালনায় প্রকল্প বাজেটে ২৫টি ফাস্ট-চার্জিং স্টেশন (যেখানে প্রতিটি স্টেশনে চারটি ৩২০ কিলোওয়াট চার্জার থাকবে), ২০টি আধুনিক ওয়ার্কশপ শেড, ২৫টি রেকার এবং ২০টি স্বয়ংক্রিয় ওয়াশিং প্ল্যান্ট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যাত্রী নিরাপত্তা ও ট্র্যাকিং নিশ্চিতে থাকবে বিশেষ ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম (VTS) এবং ভিডিও মনিটরিং ব্যবস্থা। বাসের খুচরা যন্ত্রাংশ নিশ্চিতের পাশাপাশি চালক ও মেকানিকদের কারিগরি দক্ষতায় বিশেষ প্রশিক্ষণ ফান্ডও বরাদ্দ করা হয়েছে।
নগরীর বায়ুদূষণ ও জ্বালানি তেল নির্ভরতা কমাতে এবং নারী যাত্রীদের জন্য নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপকে বিশেষজ্ঞরা সময়োপযোগী বলছেন। বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন বাস কেনাই শেষ কথা নয়; সর্বোচ্চ সুফল পেতে রুট রেশনালাইজেশন, বাসের সঠিক সার্ভিসিং ও রিচার্জিং পলিসি নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া ইলেকট্রিক বাসের ক্ষেত্রে উচ্চ আমদানি শুল্ক কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা গেলে ঢাকার লক্কড়-ঝক্কড় বাসের সংস্কৃতি পেছনে ফেলে পরিবেশবান্ধব স্মার্ট গণপরিবহনের নতুন অধ্যায় শুরু হবে।



