কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির চাকা সচল রাখতে দিন দিন বাড়ছে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের চাহিদা। কিন্তু সাধারণ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো যখন এআই ডেটা সেন্টারের এই হঠাৎ বেড়ে যাওয়া বিদ্যুতের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, ঠিক তখনই এক জাদুকরী সমাধান নিয়ে হাজির হলো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘তেরাপাওয়ার’। তাদের তৈরি একটি বিশেষ পারমাণবিক চুল্লি বা রিয়্যাক্টর এখন এআই দুনিয়ার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার এক অনন্য ‘গোপন অস্ত্র’ হয়ে উঠেছে।
কী সেই গোপন অস্ত্র? এই বিশেষ চুল্লিটির নাম ‘ন্যাট্রিয়াম’। এটি মূলত তিন শ পঁয়তাল্লিশ মেগাওয়াটের একটি ছোট ও আধুনিক পারমাণবিক চুল্লি। এর আসল জাদু লুকিয়ে আছে গলিত লবণের প্রযুক্তিতে। যখন অতিরিক্ত তাপ তৈরি হয়, তখন এই রিয়্যাক্টরটি সেই তাপ গলিত সোডিয়ামের মধ্যে চমৎকারভাবে জমা করে রাখতে পারে। এআই ডেটা সেন্টারে যখন হঠাৎ করে বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়, তখন চুল্লির মূল উৎপাদন ক্ষমতা না বাড়িয়েই কেবল ওই জমিয়ে রাখা তাপ থেকে মুহূর্তের মধ্যে বাড়তি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়।
সাধারণ চুল্লির চেয়ে কেন সেরা? বর্তমানে সাধারণ পারমাণবিক চুল্লিগুলো প্রতি মিনিটে মাত্র শতকরা পাঁচ ভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে পারে। আর সাধারণ ছোট চুল্লিগুলো পারে প্রায় শতকরা দশ ভাগ। কিন্তু তেরাপাওয়ারের এই আধুনিক প্রযুক্তিটি কোনো সময় না নিয়েই মুহূর্তের মধ্যে সেই বাড়তি চাহিদা মিটিয়ে দিতে পারে। তা ছাড়া এটি বছরের প্রায় শতকরা সাড়ে বিরানব্বই ভাগ সময়ই পূর্ণ ক্ষমতায় সচল থাকতে পারে, যা প্রচলিত বিদ্যুৎ উৎপাদকদের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য।
মেটার বিশাল চুক্তি প্রযুক্তির এই দারুণ সম্ভাবনা দেখে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান ‘মেটা’ ইতিমধ্যেই তেরাপাওয়ারের সঙ্গে একটি বড় চুক্তি সই করেছে। তারা আটটি ন্যাট্রিয়াম বিদ্যুৎ কেন্দ্র কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সব ঠিক থাকলে, আগামী দুই হাজার সাতাশ সালে এই যুগান্তকারী ডেটা সেন্টার প্রকল্পের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তির অবিরাম অগ্রযাত্রার পেছনে যে বিশাল জ্বালানির প্রয়োজন, তা মেটাতে এই নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভবিষ্যতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে!



