জাপানের ক্রমবর্ধমান শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির অংশগ্রহণ বাড়াতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে জাপানের শিজুওকা শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ-জাপান হিউম্যান রিসোর্স ম্যাচিং সেমিনার। সোমবার (৩ আগস্ট) গ্র্যানশিপ কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল ট্রেইনি অ্যান্ড স্কিলড ওয়ার্কার কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (JITCO)-এর যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী বলেন, জাপানের শিল্পখাতে ক্রমবর্ধমান দক্ষ জনশক্তির চাহিদার সঙ্গে বাংলাদেশের জনমিতিক সুবিধাকে (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) কার্যকরভাবে যুক্ত করা গেলে উভয় দেশই পারস্পরিকভাবে লাভবান হবে। তিনি জানান, জাপানের শিল্পখাতের প্রয়োজন মেটাতে বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীদের আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলা হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ২৫০টিরও বেশি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে জাপানি ভাষা শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে এবং নিয়মিতভাবে সাতটি ক্যাটাগরিতে স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার (SSW) মূল্যায়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া গত ছয় মাসে কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১২ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি জাপানে গেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সেমিনারে জিটকোর সভাপতি শিনজি ওগাওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের পরিশ্রম, সততা এবং জাপানি সংস্কৃতির সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশি টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ও স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কাররা জাপানের বিভিন্ন শিল্পখাতে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানি ভাষা ও দক্ষতা পরীক্ষায় বাংলাদেশি প্রার্থীদের সাফল্যের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর মো. জয়নাল আবেদীন তার উপস্থাপনায় জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরিতে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে জাপানি প্রতিষ্ঠানের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। একই সঙ্গে মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনাও সৃষ্টি হয়েছে।
সেমিনার শেষে আয়োজিত নেটওয়ার্কিং পর্বে জাপানের তত্ত্বাবধায়ক সংস্থা, বিভিন্ন নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ থেকে সফররত প্রতিনিধিদলের সদস্যরা অংশ নেন। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে জাপানের শ্রমবাজারে আরও বেশি দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।



