দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বড় পর্দায় ফিরছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা আমিন খান। অর্ধযুগের বেশি সময় পর নতুন সিনেমা ‘গুলশানের চামেলি’-তে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে হাজির হচ্ছেন তিনি। শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে আয়োজিত মহরত অনুষ্ঠানে সিনেমাটির শিল্পী তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। মোহাম্মদ ইকবাল পরিচালিত এই তারকাবহুল সিনেমায় আমিন খানের পাশাপাশি অভিনয় করছেন মধুমিতা সরকার, রোজিনা, আজমেরী হক বাঁধন, ওমর সানী, মিশা সওদাগর, আশীষ খন্দকার এবং মুকিত জাকারিয়াসহ আরও অনেকে।
১৯৯৩ সালে মোহাম্মদ হোসেন পরিচালিত ‘অবুঝ দুটি মন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে আমিন খানের। তিন দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি উপহার দিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমা। ২০১০ সালের পর থেকে চলচ্চিত্রে অনিয়মিত হয়ে পড়লেও ২০১৮ সালের পর গত বছর ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ সিনেমার মাধ্যমে পর্দায় ফিরেছিলেন। তবে সেই সিনেমার শুটিং হয়েছিল কয়েক বছর আগেই। নতুনভাবে ‘গুলশানের চামেলি’-তে যুক্ত হওয়ায় আবারও নিয়মিত অভিনয়ে ফেরার ইঙ্গিত মিলছে।
দীর্ঘদিন পর নতুন সিনেমায় অভিনয় প্রসঙ্গে আমিন খান বলেন, অনেক দিন পর চলচ্চিত্রে কাজ করতে পেরে তিনি আনন্দিত। মাঝখানে দীর্ঘ বিরতি থাকলেও এবার গল্প, নির্মাতা এবং সহশিল্পীদের কথা বিবেচনা করেই সিনেমাটিতে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার বিশ্বাস, পুরো টিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দর্শকদের জন্য একটি মানসম্মত চলচ্চিত্র উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।
রাজনীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অভিজাত সমাজের অন্ধকার বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে ‘গুলশানের চামেলি’। গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এমন এক যৌনকর্মীর জীবন, যিনি কোনো অপরাধ না করেও বারবার ক্ষমতাবানদের নির্মম ষড়যন্ত্রের শিকার হন। এই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করবেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার।
এই সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডে অভিষেক হচ্ছে মধুমিতা সরকারের। এর আগে ২০১৬ সালে অভিনেতা মোশাররফ করিমের সঙ্গে একটি টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করলেও এটিই তার প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র। মহরত অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তিনি কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন।
অ্যাক্সেল ফিল্ম প্রোডাকশনস-এর ব্যানারে নির্মিত সিনেমাটির প্রযোজক জাহাঙ্গীর শিকদার এবং চিত্রনাট্য লিখেছেন আবদুল্লাহ জহির বাবু। প্রায় পাঁচ বছর আগে সিনেমাটির ঘোষণা দেওয়া হলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। নির্মাতা জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে শুটিং শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং আগামী বছরের কোনো এক ঈদে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।



