যে বয়সে অধিকাংশ শিশু হাঁটতে শেখে এবং আধো আধো কথা বলতে শুরু করে, সেই মাত্র ১৮ মাস বয়সেই ইংরেজি ভাষায় অসাধারণ দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে ‘এশিয়া বুক অব রেকর্ডস’ থেকে ‘গ্র্যান্ড মাস্টার’ খেতাব অর্জন করেছে খাগড়াছড়ির ক্ষুদে প্রতিভা মোহাম্মদ শেহজাদ বিন খলিল। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা বিশেষ প্রশিক্ষণ ছাড়াই বাবা-মায়ের নিয়মিত অনুশীলন ও উৎসাহে এই অনন্য সাফল্য অর্জন করেছে সে।
২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর খাগড়াছড়ি সদরের মাইনী ভ্যালিতে মো. ইব্রাহিম খলিল ও তানিয়া খলিল দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় শেহজাদ। ছয় মাস বয়স থেকেই বাবা-মা পরিকল্পিতভাবে তার সঙ্গে নিয়মিত ইংরেজিতে কথা বলা শুরু করেন। শুরুতে কোনো প্রতিক্রিয়া না থাকলেও ধীরে ধীরে ইংরেজি শব্দ, বাক্য ও দৈনন্দিন কথোপকথন আয়ত্ত করতে থাকে সে। বর্তমানে শেহজাদ ইংরেজিতে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে, ছড়া আবৃত্তি করতে পারে এবং প্রাণী, ফল, সবজি ও ঘরের বিভিন্ন জিনিস সহজেই শনাক্ত করতে সক্ষম।
শেহজাদের বাবা, পেশায় ফ্রিল্যান্সার মো. ইব্রাহিম খলিল জানান, সন্তানের ভাষা শেখার স্বাভাবিক ক্ষমতাকে কাজে লাগাতেই ছোটবেলা থেকেই তার চারপাশে ইংরেজি ভাষার পরিবেশ তৈরি করেছিলেন তারা। শেহজাদের অসাধারণ দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য ১৫ মাস বয়সে ‘এশিয়া বুক অব রেকর্ডস’-এ আটটি ভিডিও পাঠানো হয়। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের পর সংস্থাটি মাত্র ১৮ মাস বয়সেই তাকে ‘গ্র্যান্ড মাস্টার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সঠিক পরিচর্যা ও ধারাবাহিক অনুশীলনের মাধ্যমে শেহজাদ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।
শেহজাদের মা তানিয়া খলিল বলেন, সন্তানের ইংরেজি শব্দ ও বাক্য বলার দক্ষতা তাদের আরও উৎসাহিত করেছে। খুব অল্প বয়সেই শেহজাদ ঘরের বিভিন্ন জিনিস, প্রাণী, ফল ও সবজির নাম ইংরেজিতে বলতে এবং বাক্য বুঝতে পারত, যা তাদের কাছে ব্যতিক্রমী মনে হয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতেও ছেলেকে ইংরেজি ভাষাভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশে বড় করে তুলতে চান এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
শুধু পরিবারই নয়, শেহজাদের এই আন্তর্জাতিক অর্জনে গর্বিত খাগড়াছড়ির স্থানীয় বাসিন্দারাও। প্রতিবেশীদের ভাষ্য, এত অল্প বয়সে এমন ভাষাগত দক্ষতা অত্যন্ত বিরল এবং এটি শুধু খাগড়াছড়ির নয়, পুরো বাংলাদেশের জন্যই গর্বের বিষয়। তারা প্রত্যাশা করেন, ভবিষ্যতে শেহজাদ আরও বড় সাফল্য অর্জন করে বিশ্বমঞ্চে দেশের সুনাম বয়ে আনবে।



