বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে শুধু ভালো শিক্ষাগত ফলাফল নয়, বরং বাস্তবমুখী দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং ধারাবাহিক শেখার মানসিকতাই ক্যারিয়ার গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এই বাস্তবতা সামনে রেখে করপোরেট পেশাজীবী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের দক্ষ করে তুলতে কাজ করছে রাজধানীর ধানমন্ডির লেক রোডে অবস্থিত সিএফও থ্রিসিক্সটি ফাইভ একাডেমি। প্রতিষ্ঠানটির মতে, সরকারি চাকরির মতো বেসরকারি চাকরিরও নির্দিষ্ট একটি ‘সিলেবাস’ রয়েছে, যা মূলত সংশ্লিষ্ট পদের জব ডেসক্রিপশন ও দায়িত্বের মধ্যেই নির্ধারিত থাকে। সেই লক্ষ্যভিত্তিক প্রস্তুতির ধারণাকেই কেন্দ্র করে একাডেমিটি করপোরেট দক্ষতা উন্নয়নের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
স্বনামধন্য ফাইন্যান্স প্রফেশনাল এইচ. এম. মইনউদ্দীন আহম্মদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই একাডেমির মূল লক্ষ্য ভবিষ্যতের দক্ষ চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) এবং করপোরেট নেতৃত্ব তৈরি করা। এ লক্ষ্যে তিনি উদ্ভাবন করেছেন ‘৩৬৫ সেকেন্ডস গ্রোথ মডেল’, যার আওতায় সদস্যরা টানা ৩৬৫ দিন ধারাবাহিক শেখার অভ্যাস গড়ে তোলেন। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে ওঠা, সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়া, শেখা বিষয় ডায়েরিতে সংরক্ষণ এবং প্রতিদিন ৩৬৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও তৈরি করা এই মডেলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একাডেমির অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, মাত্র ১০টি ভিডিও তৈরি করলেই সদস্যদের আত্মবিশ্বাস উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং ৩০টি ভিডিও সম্পন্ন করার পর তারা চাকরির সাক্ষাৎকারে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের উপস্থাপন করতে সক্ষম হন।
ধারাবাহিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একাডেমিতে চালু রয়েছে ‘গ্রোথ পার্টনার’ মডেল। এতে দুইজন সদস্য একে অপরের শেখার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন, নিয়মিত অনুশীলনে উৎসাহ দেন এবং ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে তুলতে পারস্পরিক সহযোগিতা করেন। একাডেমির মতে, এই সহযোগিতামূলক সংস্কৃতি সদস্যদের ধারাবাহিক শেখা ও ব্যক্তিগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
একাডেমির পরিচালক এইচ. এম. মইনউদ্দীন আহম্মদ জানান, তাদের কার্যক্রম পাঁচটি মূল ধাপের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়—শিখুন, নোট নিন, প্রয়োগ করুন, শেয়ার করুন এবং নিয়মিত অনুশীলন করুন। তিনি বলেন, শুধু চাকরি পাওয়াই নয়, বরং পদোন্নতি, বেতন বৃদ্ধি, নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন এবং দীর্ঘমেয়াদি করপোরেট সফলতা নিশ্চিত করাই এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য। তার মতে, আত্মবিশ্বাসই কর্মজীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি, আর সেই আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে জ্ঞান, বাস্তব অভিজ্ঞতা, যোগাযোগ দক্ষতা এবং ভাষাগত পারদর্শিতার সমন্বয়ে।
একাডেমির সদস্যরা প্রতিদিন নতুন বিষয় শেখা, নোট গ্রহণ, কর্মক্ষেত্রে শেখা বিষয় প্রয়োগ, গ্রোথ পার্টনারের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নিয়মিত পাবলিক স্পিকিং অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষতা ও দৃশ্যমানতা বাড়ান। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই ধারাবাহিক অনুশীলনের ফলেই প্রতি সপ্তাহে একাধিক সদস্য নতুন চাকরি, পদোন্নতি কিংবা নতুন ক্যারিয়ারের সুযোগ অর্জন করছেন।
সদ্য প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা কয়েকজন সদস্য জানান, তারা নিজেদের কাঙ্ক্ষিত পদকে ‘জব সিলেবাস’ হিসেবে নির্ধারণ করে বছরব্যাপী বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। অভিজ্ঞ মেন্টরদের তত্ত্বাবধানে তারা করপোরেট কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় বাস্তব দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান।
বর্তমানে একাডেমিতে ট্যাক্স, ভ্যাট, টিডিএস, ভিডিএস, করপোরেট আয়কর, ফান্ড ম্যানেজমেন্ট, কস্টিং, বাজেটিং এবং ফুল-সাইকেল অ্যাকাউন্টস বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এক্সেলের মাধ্যমে দ্রুত রিপোর্ট প্রস্তুত, বিভিন্ন অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যারের ব্যবহার এবং আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) টুল ব্যবহারের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন খাতের ৬৫০-এর বেশি পেশাজীবী সিএফও থ্রিসিক্সটি ফাইভ একাডেমির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ঢাকাকে চারটি জোনে ভাগ করে এবং চট্টগ্রামে পৃথক নেতৃত্ব কমিটির মাধ্যমে নিয়মিত কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে, যেখানে বাস্তব তথ্য ও কেস স্টাডির ভিত্তিতে করপোরেট দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।



