
বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও গবেষণা অঙ্গনের জন্য এসেছে এক গৌরবময় স্বীকৃতি। সিঙ্গাপুরভিত্তিক Asian Scientist Magazine প্রকাশিত মর্যাদাপূর্ণ “Asian Scientist 100”-এর ১১তম সংস্করণে স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের তিন বিশিষ্ট গবেষক-মারজানা আক্তার, ড. তাহমিদ আহমেদ এবং ড. মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন শায়ক।
প্রতিবছর এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সেইসব বিজ্ঞানীদের এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যারা গবেষণা, উদ্ভাবন ও নেতৃত্বের মাধ্যমে নিজ নিজ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এবং আন্তর্জাতিক বা জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি অর্জন করেন। এ বছরের তালিকায় বাংলাদেশের তিন গবেষকের অন্তর্ভুক্তি দেশের বৈজ্ঞানিক অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) স্নাতক মারজানা আক্তার এ বছরের তালিকায় সবচেয়ে কমবয়সী বিজ্ঞানীদের একজন। তিনি বাংলাদেশের পোলট্রি খাতের জন্য হুমকিস্বরূপ একটি অজ্ঞাত ভাইরাস শনাক্ত ও এর বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে নেতৃত্ব দেন। তার এই গবেষণা দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও প্রাণিসম্পদ খাতের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া তিনি জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ Young Women for Biosecurity Fellowship অর্জনকারী বাংলাদেশের প্রথম নারী গবেষক।
অন্যদিকে, ড. তাহমিদ আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি গবেষণায় অসামান্য অবদান রেখে আসছেন। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (icddr,b) নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এই প্রতিষ্ঠানের প্রথম বাংলাদেশি প্রধান। মাতৃ ও শিশুপুষ্টি, অপুষ্টি প্রতিরোধ এবং ডায়রিয়াজনিত রোগ মোকাবিলায় তার গবেষণা আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত। তিনি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের অ্যাফিলিয়েট অধ্যাপক এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে কাজ করছেন।
তালিকায় স্থান পাওয়া তৃতীয় বিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন শায়ক, যিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলসের (বুটেক্স) সহযোগী অধ্যাপক। তিনি টেক্সটাইল শিল্পের কার্বন নিঃসরণ ও পরিবেশ দূষণ কমাতে উদ্ভাবনী গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার প্রতিষ্ঠিত Decarbonisation Lab for Textile Process Innovation কম তাপমাত্রা, কম রাসায়নিক ব্যবহার এবং কম পানি খরচের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব রঞ্জন প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছে। এর আগে তিনি আন্তর্জাতিক Global Change Award-এ বিশ্বের শীর্ষ ১০ উদ্ভাবকের একজন হিসেবে স্বীকৃতি পান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্বীকৃতি শুধু তিন বিজ্ঞানীর ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং এটি বাংলাদেশের গবেষণা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। তাদের সাফল্য দেশের তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় আরও আগ্রহী করে তুলবে এবং ভবিষ্যতে বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।


