টানা সাত বছর ধরে এক রহস্যময় পাখিকে হন্যে হয়ে খুঁজছিলেন একজন বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ। অবশেষে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির হাজারিখিল বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যে শেষ হলো সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষা !
ঘটনার শুরু ২০১৮ সালে। হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের এক বাঁশঝাড়ে পাখিটির দেখা পেলেও সেদিন ভালো ছবি তুলতে পারেননি লেখক আ ন ম আমিনুর রহমান । এরপর দেশের বিভিন্ন জায়গায় তন্ন তন্ন করে খুঁজলেও অধরাই থেকে যায় গোমড়ামুখো এই পাখিটি । অবশেষে চলতি বছরের ২৫ মার্চ রাতে ‘বার্ডিংবিডি ট্যুরস’-এর একটি দলের সাথে হাজারিখিলে গিয়ে এক অভিনব কৌশল কাজে লাগান তিনি । মোবাইলে পাখিটির পুরোনো ডাক বাজানোর পর খুব কাছ থেকে সেটি সাড়া দেয় এবং টর্চের আলো ফেলতেই ক্যামেরায় বন্দি হয় এর অসাধারণ একটি ছবি ।
এই চমৎকার পাখিটির নাম ‘ছোট নিমপোখ’ বা ছোট নিমপ্যাঁচা । পশ্চিমবঙ্গে এটি কোকিলকণ্ঠী প্যাঁচা এবং ইংরেজিতে ওরিয়েন্টাল স্কুপ আউল নামে পরিচিত । এরা আকারে খুব ছোট ও গাঁট্টাগোট্টা হয়, ওজন মাত্র ৭৫ থেকে ৯৫ গ্রামের মতো । দিনের বেলা এরা গাছ বা বাঁশঝাড়ের ছায়ায় নিজেকে লুকিয়ে রাখে এবং রাতে মাটিতে নেমে পোকামাকড়, টিকটিকি ও ইঁদুর শিকার করে । বাংলাদেশ ছাড়াও জাপান, ইন্দোনেশিয়া থেকে সাইবেরিয়া পর্যন্ত এদের বিস্তৃতি রয়েছে ।
মার্চ থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত এই প্যাঁচাদের প্রজননকাল । রাতের আঁধারে এরা নমনীয় স্বরে ‘টুক-টুক-কু-রুক’ শব্দে ডাকে । বন্যপ্রাণী ও পাখিপ্রেমীদের জন্য বিরল এই ছোট নিমপোখের পরিষ্কার ছবি পাওয়ার খবরটি নিঃসন্দেহে দারুণ এক রোমাঞ্চকর ঘটনা



