স্ত্রীর আবদার পূরণ করতে মধ্যরাতে পিকআপ নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছিলেন ঈশ্বরদীর এক দম্পতি। তবে সেই ঘোরাঘুরিই শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য বিপত্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পথিমধ্যে পিকআপটি যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিকল হয়ে গেলে স্থানীয়দের সন্দেহের মুখে পড়েন তারা। প্রথমে গরুচোর সন্দেহে এলাকাবাসী তাদের আটক করে রাখে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দম্পতিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা চুরির সঙ্গে জড়িত নন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হলেও, মধ্যরাতে ওই এলাকায় অবস্থানের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ করা হয়েছে তাদের ব্যবহৃত পিকআপটিও।
ঘটনাটি সোমবার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাতে পাবনার ঈশ্বরদী পৌর এলাকার উমিরপুরে ঘটে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে আটক দম্পতিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তারা হলেন, ঈশ্বরদী পৌর শহরের শহীদ আমিনপাড়া এলাকার মৃত ইউনুছ শেখের ছেলে রায়হান শেখ (২৫) এবং তার স্ত্রী সুমাইয়া খাতুন (১৮)।
আটক দম্পতির ভাষ্য অনুযায়ী, রাত দেড়টার দিকে সুমাইয়ার ইচ্ছায় তারা নিজস্ব পিকআপ নিয়ে ঘুরতে বের হন। প্রায় এক ঘণ্টা বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরির পর উমিরপুর এলাকায় পৌঁছালে গাড়িটি বিকল হয়ে যায়। তারা সেটি মেরামতের চেষ্টা করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন তাদের সন্দেহজনকভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে গরুচোর সন্দেহে আটক করেন। পরে আরও লোকজন জড়ো হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা তাদের আটকে রাখে। দম্পতির অভিযোগ, এ সময় কয়েকজন রায়হান শেখকে মারধরও করেন। ভোর ৪টার দিকে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে ঈশ্বরদী আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ঈশ্বরদী আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আফজাল হোসেন জানান, প্রাথমিক তদন্তে দম্পতির বিরুদ্ধে গরু চুরির কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তবে গভীর রাতে ওই এলাকায় অবস্থানের বিষয়ে তারা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবহৃত পিকআপটিও জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় কয়েকজনের মারধরে আহত রায়হান শেখকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।



