সিলেটে বর্ণিল আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে একসঙ্গে ১২৬ তরুণ-তরুণীর গণবিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। খরচ ছাড়াই আয়োজিত এই বিয়েতে নবদম্পতিরা পেয়েছেন নতুন জীবনের স্বপ্নপূরণের সুযোগ ও প্রয়োজনীয় উপহার সামগ্রী। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর একটি অভিজাত কনভেনশন সেন্টারে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। জাঁকজমকপূর্ণ সাজসজ্জা ও উৎসবের আমেজে আয়োজিত এই বিয়েকে ঘিরে উপস্থিত অনেকেই বলেন, এটি যেন কোনো সম্ভ্রান্ত পরিবারের স্বপ্নময় বিয়ের অনুষ্ঠান। আয়োজকদের মতে, এর মূল লক্ষ্য ছিল সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের জীবনকে স্বাভাবিক ও আনন্দময় করে তোলা। অর্থাভাবে যারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়েও বিয়ের সুযোগ পাননি, তাদের জন্যই এই মানবিক উদ্যোগ।
মানবিক সংগঠন ‘সিডস অব ব্লেসিংস’ এবং যুক্তরাজ্য প্রবাসী তরুণদের সংগঠন ‘সিডস অব সাদাকাহ’ এই আয়োজনের অর্থায়ন করে। অনুষ্ঠানে নবদম্পতিদের নতুন জীবনকে স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে প্রায় দুই লাখ টাকা সমমূল্যের ৭৭ ধরনের গৃহস্থালি সামগ্রী উপহার দেওয়া হয়, যার মধ্যে রয়েছে পোশাক, খাট, বালিশ, তোশক ও তৈজসপত্র। আয়োজনের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মেয়েদের সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ পারিবারিক জীবনের সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।
ডা. রেদওয়ানুর রহমানের পরিচালনায় বিবাহ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন— রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান বেলাল, সিলেট প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূর, সিডস অব সাদাকাহর পক্ষে আবুল খায়ের ও জয়নুল আবেদীন রুহেল। আয়োজকরা জানান, সমাজের অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাদের মূল লক্ষ্য এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বিয়ের অনুষ্ঠানে আসা অতিথিরা যৌতুকবিহীন এই গণবিবাহের প্রশংসা করে বলেন, এটি সমাজে ইতিবাচক প্রভাব রাখবে।
‘সিডস অব সাদাকাহ’-এর সংগঠন প্রধান মো. জয়নুল আবেদিন বলেন, আমাদের লক্ষ্য সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের জন্য আনন্দ ও স্বনির্ভরতার পথ তৈরি করা। সংগঠনের আরেক আয়োজক ওরাকাতুল জান্নাত বলেন, নতুন জীবনের শুরুতে এই সঙ্গ ও সহায়তা তাদের মনে নতুন আশা ও উদ্দীপনা জাগাবে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, পাত্র-পাত্রীর পরিবার ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।



