২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের বহুল প্রতীক্ষিত লড়াইকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। আগামী ১৫ জুলাই আটলান্টায় অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচের আগে দুই দলের সাবেক তারকা ফুটবলারদের মন্তব্যে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইংল্যান্ডের সাবেক মিডফিল্ডার ও চেলসি কিংবদন্তি জো কোল আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে জানিয়েছেন, ইংল্যান্ড লিওনেল মেসিকে থামিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেবে। এক আলোচনায় তিনি বলেন, “মেসিকে ঘুম পাড়িয়ে দিতে হবে, আর আমরা সেটাই করব।” তার এই মন্তব্য মুহূর্তেই ফুটবল অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গ্যারি লিনেকার, অ্যালান শিয়ারার ও মিকা রিচার্ডসের সঙ্গে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিয়ে আলোচনার সময় কোলের এই বক্তব্য আসে। অনুষ্ঠানের অন্য বিশ্লেষকরা তাকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, মেসি যদি ম্যাচে নিজের জাদুকরী পারফরম্যান্স দেখান, তাহলে এই মন্তব্যই পরে তার জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তবে সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব না দিয়ে জো কোল আরও দৃঢ়ভাবে বলেন, “আমি এখনই বলছি, ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠবে।”
তবে আর্জেন্টিনাকে হারানো যে মোটেও সহজ হবে না, তা স্বীকার করেছেন সাবেক ডিফেন্ডার মিকা রিচার্ডস। তার মতে, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে জিততে হলে ইংল্যান্ডকে নিজেদের সেরাটা খেলতে হবে। তিনি আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের ‘চতুর’ বলে উল্লেখ করে বলেন, বড় ম্যাচ জেতার অভিজ্ঞতা ও মানসিক দৃঢ়তা তাদের অন্যতম শক্তি। যদিও ইংল্যান্ডের গতি ও আক্রমণভাগের ওপর ভরসা রেখে তিনি বিশ্বাস করেন, থ্রি লায়ন্স জয় তুলে নিতে সক্ষম হবে।
মজার বিষয় হলো, মেসিকে নিয়ে জো কোলের এই কঠোর মন্তব্য তার আগের অবস্থানের সঙ্গে কিছুটা সাংঘর্ষিক। কারণ অতীতে তিনি বহুবার মেসিকে বিশ্বের সেরা ফুটবলার হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চেয়েও এগিয়ে রেখেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “মেসিই একমাত্র খেলোয়াড়, যে সবকিছু অর্জন করেছে এবং নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে।”
এদিকে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ নিয়েও মন্তব্য করেছেন ইংল্যান্ডের আরেক সাবেক তারকা গ্যারি নেভিল। তিনি ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে ‘বিশ্বের সেরা-খারাপ সেন্টারব্যাক জুটি’ বলে আখ্যা দেন। নেভিলের মতে, এই দুই ডিফেন্ডার এক মুহূর্তে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখাতে পারেন, আবার পরের মুহূর্তেই অবিশ্বাস্য ভুল করে বসেন। তবে তাদের লড়াকু মানসিকতা ও বড় ম্যাচে প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতাও তিনি স্বীকার করেছেন।
সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল শুধু ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন অধ্যায় হতে যাচ্ছে। মাঠের লড়াইয়ের আগেই দুই দেশের সাবেক তারকাদের কথার যুদ্ধ এই ম্যাচকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।



