তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়াকে ১৫৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২৯০ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে বাংলাদেশের বোলারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ১৩৭ রানেই অলআউট হয়ে যায় মালয়েশিয়া। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দুই ওপেনার জাওয়াদ আবরার ও ইকবাল হোসেন দ্রুত ফিরে যান। ইকবাল কোনো রান না করেই বিদায় নেন, আর জাওয়াদ করেন ৮ বলে ৫ রান। এরপর কালাম সিদ্দিকী অলিন ৫৬ বলে ৩৪ রান করে ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন। শাহরিয়ার সাকিব করেন ২৬ বলে ২১ রান।
এরপর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও আহরার আমিন পিয়ান মিলে বাংলাদেশের ইনিংসে গতি ফেরান। দুজনই তুলে নেন দারুণ ফিফটি। সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে গিয়েও শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্ক ছোঁয়া হয়নি আব্দুল্লাহর। ১০০ বলে ৯৪ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন তিনি। অন্যদিকে আহরার ৬২ বলে করেন ৬১ রান।
ইনিংসের শেষদিকে শেখ পারভেজ জীবন ঝড় তোলেন। মাত্র ১৮ বলে ৩৫ রানের অপরাজিত ক্যামিও ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহকে ২৯০ রানে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। মালয়েশিয়ার হয়ে আরিফ উল্লাহ ৪টি এবং বিজয় উনি ২টি উইকেট নেন। একটি করে উইকেট শিকার করেন সাইফ উল্লাহ মালিক ও মুহাম্মদ আমির।
২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে মালয়েশিয়া। বাংলাদেশের বোলাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপকে ধসিয়ে দেন। সাইফ উল্লাহ মালিক সর্বোচ্চ ২১ রান করেন। দলের হয়ে লড়াইয়ের চেষ্টা করা আহমেদ জুবাইদি জুলকিফলে ৬৬ বলে ৪২ রান করেন। তবে তাকে ফিরিয়ে দিয়ে মালয়েশিয়ার প্রতিরোধের শেষটুকুও ভেঙে দেন শেখ পারভেজ জীবন।
শেষদিকে জীবন ও মারুফ মৃধার বোলিং তোপে দ্রুত গুটিয়ে যায় মালয়েশিয়ার ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ১৩৭ রানেই অলআউট হয় তারা। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন শেখ পারভেজ জীবন। মাত্র ১৬ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরার মতো পারফরম্যান্স করেন তিনি। মারুফ মৃধা ও স্বাধীন ইসলাম নেন দুটি করে উইকেট, আর একটি উইকেট পান মাহফুজুর রাব্বি।
এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৪ আগস্ট এবং তৃতীয় ওয়ানডে ১৬ আগস্ট।



