বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য আন্তর্জাতিক ভ্রমণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। সর্বশেষ বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচক অনুযায়ী, এখন বিশ্বের ৩৫টি দেশ ও অঞ্চলে বাংলাদেশিরা আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারবেন। এসব গন্তব্যে ভিসামুক্ত (Visa-Free), ভিসা অন অ্যারাইভাল (Visa on Arrival) অথবা ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (eTA) সুবিধার মাধ্যমে প্রবেশ করা যাবে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স প্রকাশিত হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স ২০২৬ (জুলাই সংস্করণ) অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টের বৈশ্বিক অবস্থান তিন ধাপ উন্নীত হয়ে ১০০তম থেকে ৯৭তম স্থানে উঠেছে। একই অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়া। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশি পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার ইঙ্গিত দিলেও দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান এখনও পিছিয়ে রয়েছে।
হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি নাগরিকরা বার্বাডোস, ভুটান, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, কোমোরো দ্বীপপুঞ্জ, কুক দ্বীপপুঞ্জ, জিবুতি, ডোমিনিকা, ফিজি, গ্রেনাডা, গিনি-বিসাউ, হাইতি, জ্যামাইকা, কেনিয়া, কিরিবাতি, মাদাগাস্কার, মালদ্বীপ, মাইক্রোনেশিয়া, মন্টসেরাট, নেপাল, নিউ, রুয়ান্ডা, সামোয়া, সেশেলস, সিয়েরা লিওন, শ্রীলঙ্কা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, বাহামাস, গাম্বিয়া, তিমুর-লেস্তে, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, টুভালু এবং ভানুয়াতু—এই ৩৫টি দেশ ও অঞ্চলে আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।
বিশ্বের অন্যতম গ্রহণযোগ্য পাসপোর্ট র্যাংকিং হিসেবে পরিচিত হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স বিশ্বের ১৯৯টি দেশের পাসপোর্টকে ২২৭টি গন্তব্যের বিপরীতে মূল্যায়ন করে। এ মূল্যায়নে আন্তর্জাতিক এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (IATA) Timatic ডেটাবেস ব্যবহার করা হয়, যেখানে বিভিন্ন দেশের সর্বশেষ ভিসানীতির তথ্য সংরক্ষিত থাকে। প্রতি মাসে হালনাগাদ হওয়া এই সূচকে একটি পাসপোর্টধারী কতটি দেশে আগাম ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারেন, তার ভিত্তিতেই পাসপোর্টের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ভিসামুক্ত বা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধা থাকলেও ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ প্রবেশ নীতিমালা অবশ্যই যাচাই করা উচিত। অনেক ক্ষেত্রে কমপক্ষে ছয় মাস মেয়াদি পাসপোর্ট, রিটার্ন টিকিট, হোটেল বুকিং, পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে হতে পারে। তাই যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস বা সরকারি ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।



