বিশ্বকাপের উন্মাদনাকে কেন্দ্র করে বিশেষ আয়োজনে সাজানো হয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’-র একটি সংকলিত পর্ব। ২০১৬ সালের বাংলা বছরের প্রথম মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জের হর্টিকালচার সেন্টারের আম্রকাননে ধারণ করা হয়েছিল এই বিশেষ পর্বটির মূল অংশ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শনে সমৃদ্ধ এই স্থানটি প্রাচীন বরেন্দ্র ও গৌড়-সুলতানী আমলের গৌরব বহন করে আসছে। আগামীকাল (০৩ জুলাই, শুক্রবার) রাত আটটার বাংলা সংবাদের পর বিটিভিতে প্রচারিত হবে এই পর্বটি, যেখানে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে অতীতে করা বিভিন্ন আকর্ষণীয় ও তথ্যবহুল প্রতিবেদনের পাশাপাশি থাকছে অন্যান্য চমৎকার অংশ।
বিষয় বৈচিত্র্যে ভরপুর এই পর্বে রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও তার বিখ্যাত ‘আম’ নিয়ে দুটি তথ্যবহুল প্রতিবেদন। এছাড়া ফজলে রাব্বী রবিন নামে এক যুবকের সর্পপ্রীতি নিয়ে সচেতনতামূলক প্রতিবেদন, ফুটবল নিয়ে তিনবার গিনেস বুকে নাম লেখানো মাগুরার হালিমের অনুকরণীয় গল্প (যাকে ১৯৯৫ সালে ইত্যাদিই প্রথম দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করেছিল) এবং খুলনার ফুলতলার পরম শিক্ষানুরাগী কুতুবুদ্দিন আহমেদের সেবামূলক কাজ নিয়ে একটি শিক্ষামূলক প্রতিবেদন রয়েছে। বিদেশি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে গ্রীসের রাজধানী এথেন্স ও সেখানকার ঐতিহ্যবাহী ইভজোন্স সেনাদলের প্রাকৃতিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক সৌন্দর্য।
অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ রফিকউজ্জামানের লেখা ও হানিফ সংকেতের সুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিয়ে একটি গানে স্থানীয় শতাধিক নৃত্যশিল্পী অংশ নিয়েছেন। রয়েছে একটি বক্তব্যধর্মী মিউজিক্যাল ড্রামা, যেখানে বিভিন্ন অফিসের অসঙ্গতি তুলে ধরা হয়েছে এবং অভিনয় করেছেন প্রাণ রায় ও জয়রাজ। দর্শকপর্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী গম্ভীরা দল অংশ নিয়ে লোকসঙ্গীত পরিবেশন করেন এবং তাদের গান থেকে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়। পাশাপাশি সামাজিক অসংগতি ও সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে বিদ্রূপাত্মক নাট্যাংশ, নানি-নাতি, মামা-ভাগ্নে ও চিঠিপত্র বিভাগও রয়েছে যথারীতি। ইত্যাদি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। কেয়া কসমেটিকসের সৌজন্যে এই সংকলিত পর্বটি প্রচারিত হবে বাংলাদেশ টেলিভিশনে।



