প্রতিবেশী দেশগুলো যখন বিদেশি বিনিয়োগ বা অর্থের জোয়ারে ভাসছে, তখন বাংলাদেশ যেন হাঁটছে উল্টো পথে [২]! সোমবার প্রকাশিত আঙ্কটাডের (UNCTAD) এক নতুন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন এক হতাশাজনক চিত্র, যা শুনলে আপনিও রীতিমতো অবাক হবেন ।
পরিসংখ্যান বলছে, বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই (FDI) আকর্ষণে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার চেয়ে কয়েক গুণ পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ । ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে বিদেশিদের মোট বিনিয়োগের চেয়ে কম্বোডিয়ায় প্রায় ৩ গুণ, ভিয়েতনামে ১৩ গুণ এবং ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ১৭ গুণ বেশি বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে !
কিন্তু হঠাৎ কেন এমন করুণ দশা? বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর পেছনে লুকিয়ে আছে দেশের ভেতরেরই কিছু বড় সংকট। একদিকে ডলারের বিপরীতে টাকার মান প্রায় ৩৬ শতাংশ কমে যাওয়া এবং ডলার সংকটের কারণে জ্বালানি আমদানিতে দেরি হওয়া
দেশের সরবরাহব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করেছে । অন্যদিকে, ২০২৩-২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা, পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ এবং জিনিসপত্রের দাম বা মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ১০ শতাংশে পৌঁছানো—সব মিলিয়ে বিদেশিরা এখানে বিনিয়োগের ভরসা হারিয়ে ফেলেছেন । এর ফলে, যেখানে ২০১৯ সালেও দেশে ১৮০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ এসেছিল, ২০২৪ সালে তা প্রায় তিন ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে ।
তবে এই হতাশার মাঝেও সবচেয়ে চমকপ্রদ অথচ রূঢ় সত্যটি তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী নিজেই । তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন, বিনিয়োগ বাড়াতে দেশে অনেক ‘সুন্দর সুন্দর প্রতিবেদন’ তৈরি হয় ঠিকই, কিন্তু দিন শেষে সেগুলোর কোনো বাস্তবায়নই হয় না !
তাই অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, কেবল খাতা-কলমে পরিকল্পনা বা সুন্দর কথার দিন শেষ। দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে এবং বিদেশিদের হারানো আস্থা ফেরাতে এখন দ্রুত এসব সুন্দর পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি ।



