ফুটবলে রেফারির হলুদ ও লাল কার্ড দেখানোর প্রচলিত পদ্ধতিতে যুক্ত হলো নতুন প্রযুক্তি। কাগজের কার্ডের পরিবর্তে এবার পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে ইলেকট্রনিক কার্ড। গত বৃহস্পতিবার উরুগুয়ে কাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নাসিওনাল ৩-০ গোলে রেসিস্তিস্তাসকে হারানোর লড়াইয়ে প্রথমবারের মতো এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
স্প্যানিশ দৈনিক মুন্দো দেপোর্তিভো-এর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে গোলডটকম জানিয়েছে, ম্যাচের ১২তম মিনিটে রেনফ্রিজের খেলোয়াড় হুয়ান পাবলো ব্লাদাকে হলুদ কার্ড দেখাতে ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার করেন রেফারি এদুয়ার্দো ভারেলা। যন্ত্রটি দেখতে অনেকটা মোবাইল ফোন বা ছোট ট্যাবলেটের মতো। নির্দিষ্ট বোতামে চাপ দিলেই এর পর্দায় হলুদ কিংবা লাল কার্ডের চিহ্ন দেখা যায়।
তবে এই প্রযুক্তির কাজ শুধু কার্ড প্রদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলাভঙ্গ ও কার্ডসংক্রান্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষণ করে ইলেকট্রনিক সিস্টেমে পাঠাতে পারে যন্ত্রটি। ফলে ম্যাচ শেষে রেফারিদের হাতে লিখে বা টাইপ করে এসব তথ্য জমা দেওয়ার প্রয়োজন কমবে। এতে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণ ও প্রতিবেদন তৈরির প্রক্রিয়াও সহজ হতে পারে।
উরুগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এইউএফ) একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে পরীক্ষামূলক এই প্রকল্প শুরু করেছে। তাদের লক্ষ্য, খেলোয়াড় পরিবর্তন, পেনাল্টিসহ ম্যাচের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাও ঘটার সঙ্গে সঙ্গে নথিভুক্ত করা। ভবিষ্যতে এসব তথ্য সরাসরি সংবাদমাধ্যমে পাঠানোর ব্যবস্থাও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রযুক্তিটির আরেকটি সুবিধা হলো, এটি ব্যবহারের জন্য ওয়াই-ফাই সংযোগের প্রয়োজন হয় না।
তবে নতুন এই প্রযুক্তিতে এখনো কিছু উন্নতির সুযোগ রয়েছে। মুন্দো দেপোর্তিভো-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম দিনের পরীক্ষায় গ্যালারি থেকে বা দূর থেকে ইলেকট্রনিক কার্ডের রং স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছিল না। ফলে স্টেডিয়ামে উপস্থিত কিছু দর্শক সাময়িকভাবে বিভ্রান্ত হন। ভবিষ্যতে দৃশ্যমানতা ও ব্যবহারিক দিকগুলোর উন্নতি করা গেলে ফুটবলের ম্যাচ পরিচালনা এবং তথ্য সংরক্ষণে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: Goal.com



