সদ্য প্রয়াত বাবা হোর্হে মেসিকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবার সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে নিজের গভীর শোক ও স্মৃতির কথা তুলে ধরেন তিনি। মেসি জানান, বাবাকে হারানোর বাস্তবতা এখনো মেনে নিতে পারছেন না। একই সঙ্গে বাবার প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, ‘তোমাকে অনেক অনেক মিস করব বাবা, তবে তুমি সবসময় আমাদের মাঝে থাকবে। তোমরা আমাকে যেভাবে বড় করেছ, আমিও আমার সন্তানদের সেভাবেই শিক্ষা দিচ্ছি। শান্তিতে ঘুমাও বাবা, আর ওপর থেকে আমাদের সেভাবেই আগলে রেখো, যেমনটা এখানে থাকতে করতে। সবকিছুর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। তোমাকে অনেক ভালোবাসি, বাবা।’
হোর্হে মেসি ৬৮ বছর বয়সে মারা যান। বাবার মৃত্যু মেসির জীবনে বড় এক শূন্যতা তৈরি করেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর মাঠের ব্যস্ততায় ফেরার কিছুদিনের মধ্যেই বাবাকে হারানোর এই শোকের মুখোমুখি হন আর্জেন্টাইন তারকা।
বাবার মৃত্যুর পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে মেসি বলেন, হোর্হের চলে যাওয়ার বিষয়টি এখনো তার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। আর কখনো বাবাকে দেখতে বা তার সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না—এই বাস্তবতা মেনে নেওয়া তার জন্য অত্যন্ত কঠিন। তিনি জানেন, বাবা দীর্ঘদিন কষ্টে ছিলেন এবং হয়তো তার চলে যাওয়া সেই কষ্টের অবসান ঘটিয়েছে; তবু মেসির আক্ষেপ, আরও কিছুটা সময় তারা একসঙ্গে কাটাতে পারতেন।
২০২৬ বিশ্বকাপ খেলতে বাবার অনুরোধের কথাও স্মরণ করেছেন মেসি। তিনি জানান, বিশ্বকাপ শুরুর কয়েক দিন আগে হোর্হে মেসির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে বাবা সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং মাঠে বসে তার খেলা দেখতে পারবেন। সেই আশায় মেসিও বাবাকে বলেছিলেন, আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠবে এবং তিনি যেন খেলা দেখতে আসতে পারেন।
বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের পর বাবার বার্তার অপেক্ষায় থাকতেন মেসি। বাবার শারীরিক অবস্থার কথা মনে রেখে তিনি টুর্নামেন্টে যতদূর সম্ভব এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, যাতে হোর্হে মেসি অন্তত একটি ম্যাচ মাঠে বসে দেখতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ আর হয়নি। মেসির ইচ্ছা ছিল বিশ্বকাপের ট্রফি বাবার কাছে নিয়ে গিয়ে তাকে নতুন একটি শিরোপা দেখাবেন। সেই স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় তার আক্ষেপ আরও গভীর হয়ে উঠেছে।
বিশ্বকাপ শেষে বাবার সঙ্গে দেখা করার স্মৃতিও তুলে ধরেছেন মেসি। তিনি জানান, তখন হোর্হে ভেবেছিলেন আর্জেন্টিনা পেনাল্টিতে ফাইনাল হেরে গেছে। বিশ্বকাপের পুরো অভিজ্ঞতা নিয়ে বাবার সঙ্গে আর বিস্তারিত কথা বলার সুযোগ হয়নি। তবে মেসি মনে করেন, শেষ পর্যন্ত বাবার কথাই ঠিক প্রমাণিত হয়েছিল—বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এবং খেলাটাই ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত।
বাবাকে ছাড়া ভবিষ্যৎ নিয়েও নিজের অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন মেসি। তিনি বলেন, হোর্হে ছিলেন তার জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অন্যতম প্রধান সঙ্গী। বাবাকে হারানোর পর কীভাবে সামনে এগিয়ে যাবেন, সেটি বুঝে উঠতে পারছেন না। এমনকি ফুটবল ক্যারিয়ার আর কতদিন চালিয়ে যেতে পারবেন, তা নিয়েও নিজের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
মেসির কাছে হোর্হে শুধু বাবা ছিলেন না; ছিলেন তার সেরা বন্ধু ও প্রতিনিধি। ক্যারিয়ারের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তিনি ছেলের পাশে থেকেছেন এবং পেশাগত সিদ্ধান্ত ও পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ছোটখাটো অভিমান বা মতবিরোধ থাকলেও শেষ পর্যন্ত বাবার পরামর্শই সঠিক প্রমাণিত হয়েছে বলে স্মৃতিচারণ করেন মেসি।
বাবার স্মৃতিচারণের শেষদিকে মেসি গভীর আবেগে তাকে ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানান। তার কথায় ফুটে উঠেছে—হোর্হে মেসি শুধু একজন কিংবদন্তি ফুটবলারের বাবা ছিলেন না, বরং লিওনেল মেসির জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানুষ, পথপ্রদর্শক ও সবচেয়ে কাছের বন্ধু ছিলেন।



