জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে সারা দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে থেমে যাবে না ঢাকার মেট্রোরেল। নিজস্ব জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা এবং ব্যাটারিতে সংরক্ষিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা ট্রেন চলাচল সচল রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।
ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে প্রথমে ৩৩ কেভি জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা চালু করা হবে। এ ব্যবস্থায় অন্তত দুই ঘণ্টা মেট্রোরেল চালানো সম্ভব। এরপর জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ শেষ হলে ইমার্জেন্সি সাব সিস্টেম (ইএসএস) বা ব্যাটারিতে সংরক্ষিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আরও এক ঘণ্টা ট্রেন চলাচল চালু রাখা যাবে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাতীয় গ্রিডের একাংশে বিপর্যয়ের কারণে ঢাকার একাংশসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এ সময় মেট্রোরেলের একটি সাবস্টেশনেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে বিকল্প ব্যবস্থা থাকায় মেট্রোরেল চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পর ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মো. নজরুল ইসলাম জানান, মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক ছিল। উত্তরা সাবস্টেশন থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় ট্রেন চলাচল অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে।
বর্তমানে ঢাকার উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল করছে। এ রুটে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য উত্তরা ও মতিঝিলে দুটি সাবস্টেশন রয়েছে। ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, মতিঝিল সাবস্টেশনে মানিকনগর থেকে এবং উত্তরা সাবস্টেশনে টঙ্গী থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। মঙ্গলবার বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সময় মতিঝিল সাবস্টেশন বন্ধ হয়ে গেলেও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সরবরাহ উত্তরা সাবস্টেশনের আওতায় চলে যায়। ফলে উত্তরা থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে মেট্রোরেল চলাচল সচল রাখা সম্ভব হয়।
ডিএমটিসিএলের পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলেও বিকল্প ব্যবস্থায় তিন ঘণ্টা মেট্রোরেল চালানো যাবে। তবে এই সময়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এবং বিকল্প ব্যবস্থার বিদ্যুৎ শেষ হয়ে গেলে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ রাখতে হবে।



