কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের এক অতি সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা মোহাম্মদ হানিফ মিয়ার গল্পটি কেবল একজন ব্যক্তির সাফল্য নয়, এটি অদম্য ইচ্ছা ও কঠোর পরিশ্রমের এক অনন্য নিদর্শন। তাঁর বাবা জীবনসংগ্রামের তাগিদে রিকশা চালাতেন এবং মা অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। পাঁচ ভাই-বোনের বড় সংসারে অভাব-অনটন ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী, যার কারণে পরিবারের বাকি ভাই-বোনেরা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেনি। কিন্তু নানা প্রতিকূলতা ও আর্থিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও হানিফ কখনো নিজের শিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন থেকে পিছপা হননি।
অভাবকে জয় করার অদম্য জেদ নিয়ে হানিফ এগিয়ে যান এবং সফলভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (আইন) ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা শেষ করে তিনি মনোযোগ দেন নিজের মূল লক্ষ্যে—বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষা। প্রথমবার এই প্রতিযোগিতামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ পরীক্ষায় অংশ নিয়েই তিনি পুরো দেশে ৪র্থ স্থান অর্জন করে এক অবিশ্বাস্য সাফল্য উপহার দেন।
এই অবিস্মরণীয় অর্জনের মাধ্যমে তিনি নিজের গ্রামের ইতিহাসে প্রথম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হতে যাচ্ছেন। বাবা-মায়ের হাড়ভাঙা খাটুনি আর হানিফের মেধা ও ধৈর্যের এই ফল আজ পুরো এলাকার মানুষকে গর্বিত করেছে। তাঁর এই রূপকথার মতো গল্প প্রমাণ করে দেয় যে, স্বপ্নের পথ যতই দুর্গম হোক না কেন, সততা, একাগ্রতা ও অদম্য ইচ্ছা থাকলে কোনো দারিদ্র্যই জীবনের অগ্রযাত্রাকে আটকে রাখতে পারে না।



