বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। রোববার (৬ জুলাই) মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজ বাসভবনে ঘরোয়া আয়োজনে নিবন্ধনের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করেন তিনি তার দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটকে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আমিরের তিন সন্তান—বড় ছেলে জুনায়েদ, মেয়ে ইরা ও ছোট ছেলে আজাদ রাও খান—সহ দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠজনরা। এছাড়া দীর্ঘদিনের বন্ধু ও ‘লগান’ পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকর এবং অভিনেত্রী এলি আব্রামও যোগ দেন এই শুভ অনুষ্ঠানে।
আমির খানের মুখপাত্র বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আগেই তিনি জানিয়েছিলেন, জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের বদলে নিবন্ধিত বিয়েই করবেন এবং পরে পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের নিয়ে ছোট পরিসরে উদযাপন করবেন। শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনাই বাস্তবায়িত হয়েছে।
আমির ও গৌরীর পরিচয় প্রায় ২৫ বছরের পুরোনো হলেও সে সময় সম্পর্ক এগোয়নি। বহু বছর পর ২০২৪ সালে আমিরের কাজিন নুজহাত খানের মাধ্যমে বেঙ্গালুরুতে আবার যোগাযোগ হয় তাদের। সেই পুনর্মিলনের পর ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। প্রথমে তারা দীর্ঘ দূরত্বের সম্পর্কে ছিলেন; পরে গৌরী মুম্বাইয়ে চলে আসেন এবং নিজের আগের সংসারের ছেলেকে নিয়ে আমিরের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন।
২০২৫ সালের মার্চে নিজের ৬০তম জন্মদিনে প্রথমবারের মতো সংবাদমাধ্যমের সামনে গৌরীকে পরিচয় করিয়ে দেন আমির। তখন তিনি জানান, জীবনের এই পর্যায়ে এসে নিজেকে অনেক বেশি শান্ত ও পরিপূর্ণ মনে হচ্ছে। যদিও তখন তিনি বিয়ের পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছিলেন, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সিদ্ধান্ত বদলে যায় এবং গত মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের ঘোষণা দেন তারা।
বর্তমানে গৌরী স্প্র্যাট আমির খান প্রোডাকশনসের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও পরিকল্পনামূলক কাজে যুক্ত রয়েছেন। এর আগে তিনি একটি আন্তর্জাতিক হেয়ার কেয়ার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
এটি আমির খানের তৃতীয় বিয়ে। ১৯৮৬ সালে রীনা দত্তকে বিয়ে করে তাদের সংসারে জন্ম নেয় জুনায়েদ ও ইরা। ২০০২ সালে বিচ্ছেদ হলেও সন্তানদের দায়িত্ব এখনো যৌথভাবেই পালন করেন তারা। এরপর ২০০৫ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা কিরণ রাওকে বিয়ে করেন আমির; সারোগেসির মাধ্যমে তাদের ছেলে আজাদের জন্ম ২০১১ সালে। ২০২১ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটলেও ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্পর্ক এখনো সুসম্পর্কপূর্ণ—কিরণ রাও বর্তমানে আমির খান প্রোডাকশনসের বোর্ড সদস্য এবং বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও সামাজিক উদ্যোগে তারা একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।



