ঘুম শুধু বিশ্রামের সময় নয়—এটা শরীর ও মনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাতে ঘুমের সময় শরীর নিজেকে সারিয়ে তোলে, মনও প্রশান্ত হয়। অথচ অনেকেই আছেন যারা বিছানায় শুয়ে থেকেও ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না। কারও ঘুম আসতে দেরি হয়, আবার কারও ঘনঘন ঘুম ভেঙে যায়। এর ফলেই দেখা দেয় সারাদিন ক্লান্তি, খিটখিটে মেজাজ এবং কাজে মনোযোগের ঘাটতি।
কলকাতার ঘুম ও শ্বাসপ্রশ্বাস বিশেষজ্ঞ ডা. অরূপ হালদার বলেন, ঘুম ঠিকভাবে না হলে শরীর ও মনের ওপর এর গুরুতর প্রভাব পড়ে। সকালে ঘুম থেকে উঠে মন খারাপ থাকে, মাথা ভার হয়ে আসে, মনোযোগ ধরে রাখা যায় না এবং ভুল হতে থাকে। নতুন কিছু শেখার আগ্রহও কমে যায়।
দীর্ঘদিন ঘুমের অভাবে যেসব সমস্যা হতে পারে:
উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।
মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলের ব্যাঘাত হতে পারে, বাড়ে স্ট্রোকের আশঙ্কা।
স্মৃতিভ্রংশ, অ্যালঝাইমার্সের ঝুঁকি বাড়ে।
ঘুমের প্রয়োজন কতটা?
ঘুমের সময় বয়স অনুযায়ী ভিন্ন হলেও, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন গড়ে ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম একান্ত প্রয়োজন। শুধু বিছানায় শুয়ে থাকা নয়—গাঢ়, নিরবচ্ছিন্ন ঘুমই প্রকৃত বিশ্রাম দেয়।
ঘুম ভালো রাখার সহজ কিছু অভ্যাস:
সন্ধ্যার পর চা-কফি পরিহার করুন।
ঘুমানোর আগে মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপ ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
ঘুমানোর ঘর রাখুন শান্ত, অন্ধকার ও আরামদায়ক।
হালকা বই পড়া বা শান্ত গান শোনা ঘুমে সহায়তা করে।
শুয়ে ২০ মিনিটেও ঘুম না এলে উঠে হালকা হাঁটাহাঁটি বা বই পড়ুন। ঘুম এলে আবার শুয়ে পড়ুন।
ঘুম না এলে দুশ্চিন্তা করবেন না—উল্টো ঘুমের ব্যাঘাত বাড়ে।
কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?
যদি ঘুমানোর সময় নাক ডাকা, শ্বাস বন্ধ হওয়া (Sleep Apnea), অথবা পা ছটফট করার সমস্যা (Restless Leg Syndrome) থাকে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ভালো ঘুম মানেই ভালো জীবন। এটা কেবল বিশ্রামের সময় নয়—শরীরের মেরামতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই ঘুম নিয়ে সচেতন হোন, অভ্যাস গড়ে তুলুন, প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন—নিশ্চিন্ত ঘুমেই লুকিয়ে আছে আপনার সুস্থতা ও সাফল্য।



