মধুপুরের ঐতিহাসিক শালবনের কোল ঘেঁষে বেড়ে ওঠা রাতুল মুন্সীর শৈশব কেটেছে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি। কিন্তু চোখের সামনে তিনি দেখেছেন কীভাবে কৃষিজমি ও জবরদখলের কারণে তাঁর বাড়ির আশপাশের বন প্রায় ৫ কিলোমিটার পিছিয়ে গেছে। প্রকৃতির এই নির্মম রূপান্তর তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয় এবং তিনি তাঁর পুরো জীবন পরিবেশ সংরক্ষণে উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি এ পর্যন্ত প্রায় ২৫,০০০ গাছ রোপণ করেছেন এবং আরও লক্ষাধিক গাছ লাগানোর বিভিন্ন প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন সময়েই তিনি একটি শতবর্ষী বটগাছ ও একটি পুকুর রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই সময়ই তিনি আহত গাছগুলোকে সুস্থ করে তোলার যত্ন নেওয়া শেখেন। তাঁর এই পরিবেশবাদী কর্মকাণ্ড পরবর্তীতে সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। দেশব্যাপী নানা বৃক্ষরোপণ অভিযানের অংশ হিসেবে তিনি ৬৪টি জেলায় প্রায় ৩,০০,০০০ ফলজ ও দুষ্প্রাপ্য বাইলাম গাছ লাগানোর কার্যক্রমে অংশ নেন।
বর্তমানেও মধুপুরের অবশিষ্ট শালবন রক্ষার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বনের কীটপতঙ্গ, পাখি এবং সামগ্রিক বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সোচ্চার রয়েছেন রাতুল। প্রকৃতির প্রতি তাঁর এই গভীর ভালোবাসা ও অক্লান্ত পরিশ্রম আজ সারা দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুকরণীয় এক উদাহরণ।



