বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। কক্সবাজারের ইনানী জাতীয় উদ্যানে প্রথমবারের মতো দুর্লভ প্রজাতি ‘ক্লাউডেড লেপার্ড’ বা মেঘলা চিতাবাঘের উপস্থিতির সন্ধান নিশ্চিত করেছেন গবেষকরা। দীর্ঘ ১৩ মাস ধরে পরিচালিত এক বিশেষ জরিপে ইনানীর গহীন বনে বসানো ক্যামেরা-ট্যাপে মোট ৫টি চিতাবাঘের ছবি ধরা পড়েছে। বন্যপ্রাণী প্রেমী এবং পরিবেশবিদদের জন্য এটি অত্যন্ত আনন্দের ও আশাব্যঞ্জক এক খবর।
এই দীর্ঘমেয়াদী জরিপে কেবল ক্লাউডেড লেপার্ডই নয়, বরং ইনানী জাতীয় উদ্যানের বৈচিত্র্যময় ইকোসিস্টেমের চিত্র ফুটে উঠেছে। একই গবেষণায় আরও ২১টি প্রজাতির বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। গবেষকদের তথ্যানুযায়ী, উদ্যানের প্রায় ৩,০০০ হেক্টর বনভূমি মেঘলা চিতাবাঘের অবাধ বিচরণ ও বসবাসযোগ্য পরিবেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তবে এই আনন্দের সংবাদের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে মারাত্মক উদ্বেগের বার্তা। গবেষণায় দেখা গেছে, অনিয়ন্ত্রিত জনবসতি স্থাপন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সম্প্রসারণ, অবৈধভাবে গাছ কাটা এবং কৃষিকাজের জন্য বনভূমি দখলের মতো মানবসৃষ্ট নানা কর্মকাণ্ডের কারণে ইনানীর বনাঞ্চল ও এর পরিবেশ চরম হুমকির মুখে পড়েছে। আবাস্থল সংকুচিত হওয়ায় বন্যপ্রাণীদের জীবনধারণ ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, দেশের এই বিরল সম্পদ রক্ষা করতে হলে এখনই কঠোর আইনি ও সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সময়মতো বনাঞ্চল দখলমুক্ত ও সুরক্ষিত না করলে এই দুর্লভ প্রজাতিটিকে আমরা চিরতরে হারিয়ে ফেলতে পারি। পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখতে জাতীয় উদ্যানগুলোর আবাস্থল সংরক্ষণে অবিলম্বে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গবেষকরা জোর তাগিদ দিয়েছেন।



