মহাকাশে এক বছরেরও বেশি সময় ভেসে থাকার পর গত ৫ আগস্ট ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের তৈরি ফ্যালকন ৯ রকেটের একটি পরিত্যক্ত অংশ চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়ে। ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল গতিতে চাঁদের মাটিতে আঘাত হানা ওই অংশের সংঘর্ষে চাঁদের পৃষ্ঠে নতুন একটি গর্ত তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে সংঘর্ষের আগের ও পরের ছবি প্রকাশ পেয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার অ্যারোস্পেস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের দানুরি স্যাটেলাইট ওই এলাকার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় ছবিগুলো ধারণ করে। ছবিতে দেখা গেছে, সংঘর্ষের ফলে চাঁদের পৃষ্ঠে একটি উল্লেখযোগ্য গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। চাঁদের জন্য ঘটনাটি বড় ধরনের ক্ষতি না হলেও মহাকাশে ক্রমবর্ধমান বর্জ্য বা স্পেস ডেব্রিস নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কেজি ওজনের এবং ৩৯ ফুট দীর্ঘ ফ্যালকন ৯ রকেটের ওই অংশটি চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়ার সময় প্রায় ৩ টন টিএনটি বিস্ফোরণের সমপরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করে। এর ফলে চাঁদের মাটিতে আনুমানিক ২৭ মিটার প্রশস্ত ও ৫ মিটার গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংঘর্ষের সময় আশপাশের পাথর ও ধূলিকণা ছিটকে পড়ায় এলাকাটি আগের তুলনায় আরও অন্ধকার দেখাচ্ছে।
এ ঘটনায় বিজ্ঞানীদের জন্য নতুন গবেষণার সুযোগও তৈরি হয়েছে। প্রতিবছর চাঁদের পৃষ্ঠে অসংখ্য উল্কা আঘাত করলেও সেগুলোর আকার, ওজন ও উপাদান সম্পর্কে আগে থেকে নির্ভুল তথ্য জানা থাকে না। কিন্তু ফ্যালকন ৯ রকেটের পরিত্যক্ত অংশটির ওজন ও গঠন সম্পর্কে তথ্য জানা থাকায়, এর সংঘর্ষের প্রভাব তুলনামূলকভাবে নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ করতে পারবেন বিজ্ঞানীরা।
আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার জন্য নাসার লুনার রিকনসেন্স অরবিটার থেকে ধারণ করা উচ্চতর রেজল্যুশনের ছবির দিকেও নজর রয়েছে বিজ্ঞানীদের। এসব ছবি পাওয়া গেলে গর্তটির প্রকৃত আকার ও সংঘর্ষের প্রভাব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
এর আগে ২০০৬ সালে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার SMART-1 স্যাটেলাইট এবং ২০২২ সালে চীনের একটি মহাকাশযানের পরিত্যক্ত অংশ চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনাগুলোতেও চাঁদের মাটিতে গর্ত তৈরি হয়েছিল।
সূত্র: Daily Mail



