২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আটলান্টায় অনুষ্ঠিতব্য এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে সামনে রেখে জার্সি নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় এসেছে আলবিসেলেস্তেরা। আর্জেন্টিনা তাদের ঐতিহ্যবাহী আকাশী-সাদা ডোরাকাটা হোম জার্সির পরিবর্তে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নীল রঙের অ্যাওয়ে জার্সি পরে খেলতে চেয়ে ফিফার কাছে বিশেষ অনুমতি চেয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আর্জেন্টাইন সাংবাদিক গাস্তন এদুল, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছেন।
তবে এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি ফিফা। জানা গেছে, মঙ্গলবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা মাত্র একবার নীল অ্যাওয়ে জার্সি পরে মাঠে নেমেছিল, গ্রুপ পর্বে জর্ডানের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে ৩-১ গোলের জয় পেয়েছিল লিওনেল মেসির দল। ফলে অনেক সমর্থকই এই জার্সিকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
আর্জেন্টিনার এই অনুরোধের পেছনে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা না থাকলেও দেশটির ফুটবল সংস্কৃতিতে প্রচলিত ‘কাবালা’ বা সৌভাগ্য ও কুসংস্কারভিত্তিক বিশ্বাসকে অনেকেই কারণ হিসেবে মনে করছেন। আর্জেন্টিনার ফুটবলে কাবালার প্রভাব নতুন নয়; বড় ম্যাচের আগে খেলোয়াড়, কোচ কিংবা সমর্থকদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সৌভাগ্যের রীতি অনুসরণ করার নজির বহুবার দেখা গেছে।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড এখন পর্যন্ত পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ইংল্যান্ড তিনবার জয় পেলেও আর্জেন্টিনার দুটি জয় এসেছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় দুই ম্যাচে। ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ এবং বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের ম্যাচে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। আর ১৯৯৮ সালের শেষ ষোলোর ম্যাচে টাইব্রেকারে জয়ী হয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা।
মজার বিষয় হলো, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দুটি বিশ্বকাপ জয়ই এসেছে নীল রঙের অ্যাওয়ে জার্সি পরে খেলার সময়। ফলে অনেকের ধারণা, সেই সফল স্মৃতি এবং সৌভাগ্যের বিশ্বাস থেকেই এবারও নীল জার্সিতে মাঠে নামতে আগ্রহী আর্জেন্টিনা। তবে কুসংস্কারের বাইরেও একটি বাস্তব কারণ রয়েছে। ফিফা সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হোম দল হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। সে কারণে নিয়ম অনুযায়ী আর্জেন্টিনাকে অ্যাওয়ে কিট পরতে হতে পারে। সবকিছু মিলিয়ে সেমিফাইনালের আগে জার্সি ইস্যুটি ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বাড়তি কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।



