বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা ডোরাকাটা জার্সির পরিবর্তে নেভি ব্লু (গাঢ় নীল) অ্যাওয়ে জার্সি পরে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। এই সিদ্ধান্তের পেছনে যেমন রয়েছে ফিফার জার্সি সংক্রান্ত নিয়ম, তেমনি রয়েছে ইতিহাস, আবেগ এবং কিছুটা ‘সৌভাগ্যের বিশ্বাস’। ফুটবলে কুসংস্কার বা সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে নির্দিষ্ট জার্সি ব্যবহারের ঘটনা নতুন নয়। আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নেভি ব্লু জার্সি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ বিশ্বকাপের মঞ্চে এই জার্সি পরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলে দু’বারই জয় পেয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে এবং ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নেভি ব্লু জার্সি গায়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে, ২০০২ বিশ্বকাপে আকাশি-সাদা ঐতিহ্যবাহী জার্সি পরে খেলতে নেমে ইংল্যান্ডের কাছে পরাজিত হয়েছিল তারা। ফলে অনেক আর্জেন্টাইন সমর্থক ও বিশ্লেষকের কাছে নেভি ব্লু জার্সি এখন এক ধরনের শুভ প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচ ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’র জন্য। মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ম্যারাডোনার দুই গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। পরে সেই আসরের শিরোপাও জিতে নেয় দলটি। অন্যদিকে, ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ২-২ সমতা থাকায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা।
এবারের সেমিফাইনালে নেভি ব্লু জার্সি পরার পেছনে ফিফার নিয়মও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সেমিফাইনালে আগে জায়গা নিশ্চিত করায় ইংল্যান্ডকে ‘টিম এ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং তারা নিজেদের জন্য সাদা জার্সি নির্বাচন করেছে। ফলে ‘টিম বি’ হিসেবে আর্জেন্টিনাকে অ্যাওয়ে কিট ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, দুই দলের জার্সির রঙ এমন হতে হবে যাতে সাদা-কালো সম্প্রচার এবং বর্ণান্ধ দর্শকদের জন্যও দল দুটিকে সহজে আলাদা করা যায়। এ জন্য বিশেষ প্রযুক্তি ‘স্পেক্ট্রোফটোমিটার’-এর সাহায্যে জার্সির রঙ যাচাই করা হয়।
ইতিহাস, আবেগ, কুসংস্কার এবং নিয়ম—সবকিছুর সমন্বয়ে এবারও নেভি ব্লু জার্সি গায়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। এখন দেখার বিষয়, অতীতের সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে পারে কি না লিওনেল মেসির দল।



