আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য আরেকটি গৌরবের খবর এসেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ)-এর প্রধান এবং আফগানিস্তানবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ কূটনীতিক রাবাব ফাতিমাকে নিয়োগ দিয়েছেন। তিন দশকেরও বেশি সময়ের কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন।
বার্তাসংস্থা আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৫ জুলাই) জাতিসংঘের মুখপাত্রের দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। রাবাব ফাতিমা কিরগিজস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি রোজা ওতুনবায়েভার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। এ সময় রোজা ওতুনবায়েভার দীর্ঘদিনের নিষ্ঠাবান সেবার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মহাসচিব গুতেরেস। পাশাপাশি ইউএনএএমএর উপ-প্রধান ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান কানাডার জর্জেট গ্যানিয়নের অবদানও স্মরণ করেন তিনি।
বর্তমানে রাবাব ফাতিমা জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল এবং স্বল্পোন্নত দেশ, স্থলবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ ও ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রশাসনে তার ৩০ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। কর্মজীবনে তিনি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় কূটনীতি, নীতিনির্ধারণ, আন্তর্জাতিক অ্যাডভোকেসি, কর্মসূচি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি (রাষ্ট্রদূত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রাবাব ফাতিমা। সেই সময় তিনি ইউনিসেফ ও ইউএন উইমেনের নির্বাহী বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০২২ সালে তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিশনের (পিসবিল্ডিং কমিশন) প্রথম নারী চেয়ার হিসেবে নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েন। একই সময়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনের সহ-সভাপতির দায়িত্বও সফলতার সঙ্গে পালন করেন তিনি।
রাবাব ফাতিমার এই নিয়োগ শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অবস্থান ও সক্ষমতারও স্বীকৃতি। বিশ্বের অন্যতম জটিল রাজনৈতিক ও মানবিক সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রে তার নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



