দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন পর্তুগিজ ফুটবল মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। মাঠে অসংখ্য রেকর্ড গড়ার পর এবার ব্যক্তিগত জীবনেও নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছেন তিনি। আগামী সপ্তাহেই দীর্ঘদিনের সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন রোনালদো।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য সান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল নাসর-এর এই তারকার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে তার জন্মস্থান পর্তুগালের মাদেরা দ্বীপের রাজধানী ফুঞ্চালে। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিয়ের মূল অনুষ্ঠান হবে ঐতিহাসিক ফুঞ্চাল ক্যাথেড্রালে, যেখানে বিকেল ৩টায় আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর অতিথিদের জন্য মধ্যাহ্নভোজ ও সংবর্ধনা আয়োজন করা হবে মাদেরার বিলাসবহুল পাঁচতারকা সাভয় প্যালেস হোটেলে।
বিয়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে হোটেল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই সাধারণ অতিথিদের জানিয়ে দিয়েছে, নির্ধারিত দুই দিন হোটেলের দুটি তলা এবং বারসহ কয়েকটি বিশেষ এলাকা শুধুমাত্র এই আয়োজনের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। ফলে রোনালদো-জর্জিনার বিয়ে ঘিরে ইতোমধ্যেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে মাদেরাজুড়ে।
এর আগে গুঞ্জন উঠেছিল, রেনেসাঁ যুগের ঐতিহাসিক কুইনতা দা রেগালেইরা এস্টেটে বসবে এই বিয়ের আসর। তবে চলতি সপ্তাহে প্রাসাদটি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকায় সেই জল্পনার অবসান ঘটে।
বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রীড়াবিদ রোনালদোর সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ১.২ থেকে ১.৪ বিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হয়। চাইলে বিশ্বের যেকোনো বিলাসবহুল স্থানে তিনি বিয়ের আয়োজন করতে পারতেন। তবে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনটির জন্য নিজের জন্মভূমিকেই বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে অনেকেই আবেগ ও শিকড়ের প্রতি ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
ফুঞ্চালের এক সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা রোনালদো শৈশবে দারিদ্র্যের মধ্যেই জীবন কাটিয়েছেন। মাত্র ১১ বছর বয়সে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে স্পোর্টিং লিসবনে যোগ দিতে পরিবার ছেড়েছিলেন তিনি। সেই ছোট্ট শহর থেকেই শুরু হয়েছিল এক কিংবদন্তির পথচলা। আজ সেই শহরেই নিজের জীবনসঙ্গীর হাত ধরে নতুন জীবনের সূচনা করতে যাচ্ছেন পর্তুগাল অধিনায়ক।



